ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির হুমকিতে পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে জ্বালানি তেলের মূল্য

চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে।

চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিন শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ও মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্কাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। খবর রয়টার্স।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাওভানো বলেন, ‘চীনা পণ্যে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগে মনোযোগী হয়েছেন। এ কারণে জ্বালানি তেলের দাম কমে এসেছে।’

শুক্রবার ব্রেন্টের দাম ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬২ ডলার ৭৩ সেন্টে স্থির হয়েছে। এ সময় ডব্লিউটিআইয়ের চুক্তিমূল্য ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ব্যারেলে ৫৮ ডলার ৯০ সেন্টে স্থির হয়, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম কমার পেছনে ট্রাম্পের ঘোষণা একক ভূমিকা রাখেনি। বরং এক্ষেত্রে একাধিক উপাদান ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ওপেকের উত্তোলন বৃদ্ধি, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় অতিরিক্ত সরবরাহ এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমে আসাও দাম কমার অন্যতম কারণ।’

এর আগে বৃহস্পতিবার চীন বিরল খনিজ রফতানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেয়, যা প্রযুক্তি শিল্পে অপরিহার্য কাঁচামাল। এর পরদিন ট্রাম্প অভিযোগ করেন, চীন বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের হুমকি দেন এবং চীনা পণ্যের ওপর ‘বড় মাত্রায় শুল্ক বৃদ্ধি’ করার ইঙ্গিত দেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যা শুক্রবার ইসরায়েল সরকার অনুমোদন করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল আংশিকভাবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং হামাস তাদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে ইসরায়েলও শতাধিক বন্দিকে ছেড়ে দেবে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে আবারো অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা বেড়েছে। এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, ‘ওপেক উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত শিথিল করার পর বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

যদিও বিএমআই রিসার্চ জানিয়েছে, নভেম্বরে ওপেক প্লাসের উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে। ফলে দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার প্রবণতা আপাতত নেই।’

এদিকে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ (শাটডাউন) দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বিশ্বের দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও